একটা যুগ ছিল
কয়েকটা যুগের সমষ্টি-
শৌর্য-বীর্য ত্যাগ আর মহিমায়
সোনালী ইতিহাস হয়ে কয়েক শতাব্দীতে ব্যাপ্তি।


হ্যাঁ, আমাদের যুগ ছিল তা,
আমার পূর্বপুরুষের ইতিহাস-
জিহাদের ময়দানে একচুমুক পানি একরামে
নিজে হয়েছে শহীদি লাশ।
তাদের উত্তরসূরি আমি সত্য-
আদর্শে তাদেরই সন্তান,
যাদের সাচ্চা দিল, পাক্কা বিশ্বাস
জগত সেরা মুসলমান।


আজও মধ্যরাতে ঘুম ভাঙায় তাহাজ্জুদ-
ফজরের আযান লাগে তেমনি করুণ,
সুমহানের ডাকে হই আজও দণ্ডায়মান
তবু সেই আদর্শে কেন আজ আমি নিদারুণ?


আজও কটূক্তিতে তপ্ত হয় মসি-
আজও অবমাননায় হাতে ওঠে অসি
একদিন এই চেতনায় তাঁরা হয়েছে বীর
আজ কেন অস্তিত্ব রক্ষায় আমি সন্ত্রাসী?


আজও দুঃস্থের সেবায় নিশাচর ছদ্মবেশী-
আড়াই শতাংশ গরীবের হক আদায় খুশী খুশী,
দীর্ঘ মাস আত্মসংযম, খোদাভীতি পাশাপাশি
তবু কেন অনাচার পাপাচার সমাজে দিবানিশি?


তবু দাবী উত্তরসূরি আমি তাঁদের-
মত-আদর্শে তাদেরই সন্তান,
শুধু তপ্ত মেজাজে রপ্ত নেই তাঁদের আখলাখ
যেমনি খোদার রাহে হাসি মুখে করত জীবন দান।


আজ ঈমান আছে, আমালও আছে-
তরীকায় গরল, শুন্যের কোঠায় এখলাস (একনিষ্ঠতা),
বহু সাধনায় অর্জিত ফল তাই
‘বিফল’ নামে হয়েছে খালাস।


‘আত্মসমর্পণ’ এ ইসলাম হয়েছে শান্তি-
সমর্পিত আমি, মত জারিতে তাই ক্রান্তি,
ইসলাম স্বতন্ত্র, চলে আপন রেখায়
আত্মমত জুরতে গেলেই আসে যত ভ্রান্তি।
যেদিন মুখে নয়, হবে মনেতেও ঈমান গ্রহণ-
আদর্শের পিতাদের মতো সমর্পিত করব নিজের মান
আবারো আসবে সেই ‘একটা যুগ’
আবারো হবে ‘জগত সেরা মুসলমান’।


সস্তাপুর, নারায়ণগঞ্জ।
০২ মাঘ, ১৪২০ বাংলা। ১৫ জানুয়ারি, ২০১৪ ঈসায়ী।