কবিতা যিনি রচনা করেন তিনিই কবি অথবা কবির কথাই কবিতা। কবিতা হল কবির মনের ভাব। এখন প্রশ্ন কবি কি কেবল কবিতাই রচনা করেন, কবি কি কেবল নিজেকেই প্রকাশ করেন নাকি তাঁর এই রচনা অথবা তাঁর এই কথা, মনের ভাবের মাঝেও কিছু লুকিয়ে থাকে? থাকে। কিন্তু কি সেই লুকানো জিনিস।

কবি বলেন,

“মসজিদের’ই পাশে আমায় কবর দিও ভাই,
যেন গোরে থেকেও মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই”

এ কি কেবল বলার জন্যই বলা, নাকি কবি চেয়েছেন তাই বলেছেন। আর মানুষও তাঁর এই চাওয়াকে বুঝতে পেরেছে। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর তাকে সমাহিত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণেই।

আমরা যারা কবিতা পাঠ করি, যখন করি যদি ভেবে থাকি ‘এ কেবলি কবির উপলব্ধি’ তাহলে অবশ্যই আমরা ভুল করবো। এ যদি কেবলি কবির উপলব্ধির ব্যাপার হত তা কোনদিন কবিতা হয়ে প্রকাশ পেতো না। মনের গভীরেই রয়ে যেত। কবির এই উপলব্ধি যখনি কবিতা হয়ে প্রকাশ পেয়েছে তখনি বুঝতে হবে এখানে হয় কবির কোন চাওয়া আছে, বলার আছে, আদেশ আছে, উপদেশ আছে, নির্দেশনা আছে, অভিজ্ঞতা আছে, অভিব্যক্তি আছে, প্রচারণা আছে, প্রণোদনা আছে। উদ্দেশ্যহীন লেখা কতটা কবিতার পর্যায়ে পরে সে ব্যাপারে আপনাদের মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।

আরেকটি উদাহরণ টেনে শেষ করবো ইনশাআল্লাহ্। কবি বলেন,

“আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
র্স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি”

কবির এই সুন্দর সাজানো কথাগুলো কি কেবলি তাঁর ভাবনা, কেবলি তাঁর উপলব্ধি কিংবা তাঁর আঠারো কালীন সময়ে উঁকি দেয়া কোন দুঃসাহসের উপাখ্যান। না, কবি নিজেই তার উত্তর দিয়ে গেছেন,

“এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে”

কেবলমাত্র একটি বাক্য, একটি চরণ দিয়েই প্রকাশ করেছেন তাঁর পুরো কবিতার উদ্দেশ্য। তিনি কেবল কবিতা লিখার জন্য কবিতা লিখেন নি, তিনি কামনা করেছেন সমস্ত কবিতা জুড়ে ‘আঠারো’ এর যে স্বরূপ তিনি উদ্ঘাটন করেছেন সেই ‘আঠারো’ যেন নেমে আসে কেবল তার মাঝে নয়, বরং সমস্ত দেশে, পুরো জাতিতে। কবিতা উদ্দেশ্যহীন নয়, উদ্দেশ্যটাকে স্পষ্ট করে শিল্পের ভঙ্গিতে প্রকাশ করতে পারাই কবির সার্থকতা, কবিতার সার্থকতা।



১৬ মার্চ, ২০২০ ঈসায়ী।