ইচ্ছে এখন


জাহিদ হোসেন রনজু
--------------------------------------------®


ছোট্ট যখন তখন থেকেই
আমার মাতা সব সময়েই
মন্ত্রের মতন আওড়ে গেছেন
খুব বলেছেন-
'ভাল থাকবে,
দেখে চলবে।
মাস্তানিটা চলবে নাকো
রাজনীতিও করবে নাকো।
জড়াবে না বাজে কাজে
ঝুট-ঝামেলায় যাবে না যে
বিবাদ দেখলে ত্বরা সরবে
সোজাসুজি বাড়ি আসবে।
কথাগুলো মনে রাখবে।
মনে থাকবে?
আমিও ঘাড় বাঁকিয়েছি,
সায় দেয়েছি।


বাবা তখন লাঠি হাতে রাখাল সাজতেন
সকল সময় আমার উপর নজর রাখতেন
আমি একটু এদিক-ওদিক পা বাড়ালেই
একটু কোথাও থমকে গেলেই
আমাকে তাঁর লাঠি দিয়েই ফের ফেরাতেন
'লাইন'-এ আনতেন।
তাতে আমার জ্বর যে আসতো
হাড়ে-মাংসে কাঁপন ধরতো
বিছানাতে বেশ কিছুদিন থাকতে হতো
মরার মতো।


বড় হলে মা বলেছেন- 'খোকা শোনো
পুলিশের চাকরি কখনো
করা যাবে না, করতে মানা
আমাদের এ বংশে এসব কেউ করে না'।


তাই মাস্তানি করা হয়নি-
ক্যাডার হইনি,
রাজনীতিও করা হয়নি-
নেতা হইনি।
পুলিশের চাকুরি নিইনি
পুলিশ হইনি।


অথচ আজ তারাই এখন 'চেঙ্গিস খাঁন'
'হালাকু খাঁন'-
সকল কিছু.....
সবাই ঘুরে তাদের পিছু।


আজ আঁতুড়ঘর থেকে শ্মশানঘাটে
সেই জন্মদিন থেকে শ্রাদ্ধ-মাঠে
দুপুর-রাত্রি-অরুণ ফাগে
সব সময়ে সব জায়গাতেই ওদের লাগে-
বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে
কোথাও চাকুরি পেতে
বদলী হতে
নিজের জায়গায় দালান করতে
এমন কী যে হাটতে-চলতে......ওদের লাগে।


তা না হলে জট লেগে যায়
ঝগড়া বাঁধায়
বোনকে কাঁদায়
জেলে যাওয়ার ভয় থেকে যায়।


কখনো কোন ঝামেলায় যায়নি বলে
আমার মনে সাহস হয়নি কোন কালে
তাই তো এখন সাহস পাই না, কুঁকড়ে থাকি
মনে মনে সদাই আমি 'রব'-কে ডাকি
সালামটা দেই নিয়ম করে ফাঁকে ফাঁকে
ক্যাডার-মাস্তান-রাজনীতিবিদ-পুলিশটাকে।


তাই তো ভুলে ন্যায়ের কথা-
মায়ের কথা
বাপের শাসন-
নিষেধ বারণ
সকল কিছু ফেলে ঝেড়ে
ইচ্ছে বেড়ে
ক্যাডার-মাস্তান-রাজনীতিবিদ-পুলিশ হতে
তা না হলে নিদেনপক্ষে
তক্কে তক্কে
'তাদের' কোন আত্মীয় হই, যাই যে বর্তে।


-------------------------------------
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, মিরপুর, ঢাকা।