কবিতা : নির্বাসিত নরক।
কবি : অরণ্য মজিদ।
তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২১।


এ আমার আবাস নয়
নির্বাসিত নরক।
এখানে জন্ম মাত্রই
কানে ভেসে আসে
মৃত্যুর আয়াত।
এখানে বুকের ভেতর ফুসফুস
দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ডুব সাঁতারে।
এখানে জীবন ঘোড়ার খুর
ক্ষুইয়ে যায়
পাথরে পাথরে।
এখানে বিপ্লবী সাহসী শরীর
জড়ো হয় লাশকাটা ঘরে।
কিন্তু এভাবে আর কতদিন?
আর কতদিন পিতা, পিতামহের নাম ভুলে
জিহ্বায় সাজাবো
সাহেব আর বাবুদের নাম।
নতজানু পিঠে নির্মাণ করবো
কুর্নিশ আর সদাচার
বয়ে যাবো সালামের বিশাল বোঝা।
এখানে মানুষ যখন হৃদপিণ্ড পোড়ায় দ্রোহের আগুনে
সাদা কফিন যখন বিত্তবান হয়
শরীরের অকাল ঘুমে
নিম্নবিত্ত কুমারী যখন
শরীরের ভাঁজে ভাঁজে ধরে রাখে
বেশ্যা বৃত্তির হাতিয়ার
অকাল যৌনতা যখন উড়িয়ে দেয়
মাতৃত্বের সনদ
যখন এদেশে সমস্ত জীবন
আগাম পরিচিতির টিকেট কাটে
শ্মশানে, গোরস্থানে
তখন আমার বাঁচবার সাহস
দ্বিখন্ডিত তরবারিতে শুধুই রক্তের অপচয়।
যখন হাত বদলে আমার দেহ চলে যায়
হায়েনার বিভৎস দাঁত থেকে
সিংহের সুচারু নখে।
যখন এদেশে বেঁচে থাকার অধিক প্রত্যাশা
মগজের শ্রেষ্ঠ অপচয়
যখন আমার অস্থির রক্তের ঢেউ
হৃদপিণ্ড ছেড়ে সাঁতার কাটে
চোখের নদী জলে
তখন কোন সুখে
প্রত্যাশা করবো বলো?
যখন প্রতিদিন আমার ক্রীতদাস
আকার রূপ নেয় চতুষ্পদে
তখন কোন সাহসে মেরুদণ্ড সোজা করে
মানুষের আকার নেবো
এ নির্বাসিত নরকে?
যখন ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, মেঘনার জলে
আমার শখের শরীর মাছেদের সাথে
সলিল সমাধি করে
তখন বিপ্লব মিছিলে
কোন স্বাধীনতা, কোন মসনদ আনতে যাবো আমি?
যখন এদেশে জীবনের বন্টন শেষ হয়
হয়রানি নিখোঁজ অথবা গুপ্তহত্যার বহরে
তখন নির্বাসিত এ নরকে
আগুনে পোড়ার অধিক সুখ
এ আমার শ্রেষ্ঠ মতিভ্রম।
যেভাবে আঙ্গুলের মতিভ্রম ঘটে
পাথরের প্রতিমায় প্রাণের সঞ্চার নিরুপনে।
এ আমার আবাস নয়
নির্বাসিত নরক
এখানে বেঁচে থাকা
আবশ্যিক নয়
চিরকাল ঐচ্ছিক।।