মনে আছে বাবা, তোমার আদরে আদরে আমার বেড়ে উঠা।
নিজ হাতে স্নান করিয়ে, ভাত মেখে মুখে তুলে দিতে।
একটিবার আমাকে ভাত খাওয়াতে, তোমাকে কত বাহানার আশ্রয় নিতে হতো!
ভাত মাখতে মাখতে রাজ্যের কত জনের নাম যে, তোমাকে বলতে হতো!
নিজে একটু করে মুখে দিয়ে বলতে, মজা হইছে, এবার খাও বাজান!
তারপর আমি খেতাম, তুমি সেই বাবা আমার।

রাগ করে একবার কান্না শুরু করলে, সারা পাড়া কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে,
হাতের তর্জনি দিয়ে দেখাতে, গাছের ডালের ফাঁকে বুলবুল, দোয়েল, শ্যামা,
অথবা বড় রাস্তা দিয়ে, হঠাৎ চলে যাওয়া বাস কিংবা ট্রাক,
রাত হলে আকাশের সাত ভাই চম্পা, ক্ষয়ে যাওয়া অর্ধেক চাঁদ,
অতঃপর আমার কান্না থেমে যেতো, তোমার মুখে তাকিয়ে খিল খিল করে হেসে উঠতাম।

কখনো কোনদিন গায়ে হাত তোলনি, বকা পর্যন্ত দিয়েছ বলে মনে পড়েনা,
উল্টো মায়ের মার হতে কতবার, তোমার আশ্রয়ে লুকিয়ে বেঁচে গেছি!
তবুও তোমাকেই ভয় পেতাম বেশী, অজানা এক ভীতি!
তোমার সামনে দাঁড়িয়ে, কোনদিন চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারিনি।
তোমার প্রতি অকৃত্রিম অসীম শ্রদ্ধায়, নত মাথা আমার।
বিশ্বাস কর বাবা, আমি কিন্তু সত্যিই তোমাকে প্রচন্ড শ্রদ্ধা করি, সীমাহীন ভালও বাসি।

ঈদের সময় নতুন জামায়, তুমি আমার শ্রেষ্ঠ বাবা,
জ্ঞান গর্ব, শিক্ষা-দীক্ষায় তুমি আমার আদর্শ বাবা।
মানবতার মনুষত্যে, তুমি আমার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ মানবতার এক উচ্চারণ, প্রিয় বাবা।
তুমিই আমার আদর্শ, আজন্ম যে স্নেহছায়ায় আগলে রেখেছ সেই ছায়া কখনো সরিয়ে নিও না।
তোমার ভালবাসার কাছে, পৃথিবী তুচ্ছ আমার!
ছায়ার মতো সবসময় পাশে থেকো, কখনও আমাকে ছেড়ে একলা অসহায় করে যেও না,
দিব্যি দিলাম, আমার কসম রইলো বাবা।

*আলোচনা সভায় বাবা দিবস নিয়ে আমার অনুসন্ধানী মুলক তথ্যবহুল লিখনীর লিংক- http://www.bangla-kobita.com/ashiq/post20140615014234/


*বাবা দিবসে, বাবাকে নিবেদন।