ষাট বছরের কোন রাজাকে প্রশ্ন করো যদি
উত্তরে সে বলবে জীবন, "কেবল দুঃখের নদী।
সান-শাওকত, বিরামখানা কিছুই নাহি চাই
কুড়ি বছরের রাখাল জীবন যদি একবার পাই!''
যৌবনের পশরা যাহার সেই তো মহারাজ
মুটে মুজুর হয়েও যেন মাথায় মুঘল তাজ।
যৌবন শেষে জীবনখানি ভাটায় পড়ে যখন
স্মৃতি শুধু আকড়ে ধরে সময় কাটে তখন।
তাই যৌবনকে সাজাও যুবক তাহার মত করে
মহামূল্য এই যে সময় আসবে না আর পরে।
বসন্তের ফুলগুলো সব ফুটে তোমার তরে
সময় পেরিয়ে গেলে তাহার সবই যাবে ঝরে।
যৌবনের এবাদতে খোদা বড় খুশী
অশীতিপরের কান্নাকাটি শুকনো ধানের ভূষি।
পাপাচারে কাটিয়ে তবে পুরো যৌবন কাল
তসবি হাতে কাঁদলে পরে পেরিয়ে ষাট সাল,
খোদা বলো কেমনে খুশি হবেন তোমার পরে?
তাই এবাদত করতে হবে থাকতে যৌবন ঘরে।
'ভাই' 'বন্ধু' ডাকগুলো মধুর লাগত আগে
'আংকেল' 'চাচা' সম্বোধন বড় বিষাদ লাগে।
জীবন গড়, দেশ গড়, বাড়াও জাতির মান
কন্ঠে তোমার আছে যবে যৌবনেরও গান।
চর্ম ঢিলা গলার সূরে কেহ নাহি মজে
আসর ত্যাগে যায় চলে অন্য সূরের খোঁজে।
পস্তুর খন্ড হয় চূর্ণ তোমার যুব পদাঘাতে
খেয়াল রেখ হেলায় যেন নস্ট না হয় যাতে।
বুড়োর হাতে ধরিয়ে দিয়ে 'দেশ' নামের গাড়ি
কি ভরসায় থাক যুবক ঘুমিয়ে নিজ বাড়ি?
মহামূল্য গাড়ি খানি অচল হাতে ছেড়ে
দিনে দিনে যায় যে তোমার ঋণের বোজা বেড়ে।
স্ট্রিয়ারিং ধরো যুবক তোমার শক্ত হাতে
সুখ-সম্পদ, সোনালী দিন আসবে দেখ তাতে।
স্রোত যখন থাকে নদীর, দূকুল ভাঙে গড়ে
যৌবন শেষে নদীর স্মৃতি ধূ ধূ বালুচরে।
প্রেম-প্রীতি, ভালবাসা তোমার যদি চাও
যৌবন হারিয়ে গেলে তার কিছুই নাহি পাও।
যৌবনের কুকুরটিকেও দেখায় বড় বেশ
'উত্তম'কে ধরে না মনে যৌবন হলে শেষ।
রাজকণ্যা রাখাল ধরে যৌবনেরও টানে
অজানায় পানসি ভাষায় ভালবাসার বানে।।