রাম সীতা গেল বনবাসে,
লক্ষ্মণ ভাই গেল তাদের সাথে।
কৌশল্যা, দশরথ আঁখিজলে ভাসে।
ঊর্মিলা শুধু কাঁদে আর কাঁদে।
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।



ঊর্মিলা- আজ চৌদ্দটা বছর,
তোমার সাথে হয়নি কথা বলা।
তোমায় রেখে এসেছি একেলা।
জানি, তোমার বড় কষ্ট হয়,
জানি, তোমার জীবন বড় দুর্বিসহ।
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।


ঊর্মিলা- তোমার হৃদয় সাগরে,
আমি দেখেছি হাজার হাজার ঊর্মিমালা।
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।
তোমার  আকাশকালো চোখে দেখেছি
আমি অমানিশার নিকষ কালো আঁধার।
পূর্ণিমার রাতে, আকাশে চাঁদ ওঠে।
ঘুম আসে না দু’চোখে তোমার।
ঊর্মিলা- তোমার বুকভরা ভালবাসা
আমার জীবনে এক দুঃসহ জ্বালা,
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।


ঊর্মিলা- তোমার জলভরা দুটি চোখ
আমাকে আজও কাঁদায়-শুধু কাঁদায়।
তুমি নীরবে সয়েছো কত অবিচার, অন্যায়।
তোমার হৃদয়কমল আজও চির উজ্জ্বল
কঠোর ত্যাগের অমর মহিমায়।
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।


সুখ দুঃখভরা পৃথিবীতে ঊর্মিলারা
আজও দুঃখ ভুলে হেসে খেলে বেড়ায়।
ত্যাগের মহিমায় ওরা আজও
বেঁচে আছে কবিতার পাতায়।
জীবন মহাকাব্যের শাখা-প্রশাখায়।