ভোরের আলসেমি দূরে ঠেলে
নিউ মাল রেল-স্টেশন থেকে
চালসা’য় যে রাস্তা গেছে চলে
যথার্থ অজগরের মতো বেঁকে,
সেই সর্পিল সড়কের দুই পাশে
চা বাগিচাগুলির ঘন নিঃশ্বাসে
অম্লজান-কুণ্ডলী বাতাসে মিশে
বায়ুকে প্রাণবন্ত করে নিমেষে।
পর্যটক তার প্রথম আবির্ভাবে      
বিভোর হলে আপনার স্বভাবে
প্রকৃতি অতিথি বরণে সেইক্ষনে
বক্ষে জড়ালো তাকে আলিঙ্গনে।  
গরু-বাথান মোড়ে চপলা-পথ    
নাচের ভঙ্গীতে নিজ দেহ-রথ  
ঘুরিয়ে আপনার কটি দোলায়ে    
পাহাড় ও বনানীকে সাথে লয়ে
চলে গেছে বহু দূরে, একেবারে
জনবহূল লাভা-র বসত-ঘরে।      
কোথাও হরিতক্ষেত্র যেন বসে    
ধন-দেবীর স্তুতি করে দিবসে।  
পাহাড়-বনানী যেন নম্র-রমণী
কুয়াশা-সিক্ত চাদরের আবরণী
মুখ থেকে সরিয়ে বলছে সরসে    
‘অদূরে প্রতীক্ষক ‘ফাগু’ হরষে।
অতিথিবৃন্দ যখনি আসবে দ্বারে
ফাগু অভ্যর্থনা দেবে সবাকারে’।
বাড়ন্ত বেলায় সমূদয় কুয়াশার  
বিদায়ে ছন্দ ফেরে উপত্যকার।
দীর্ঘ পথের দু’ধারে তরু-শাখে  
আনন্দে শত-শত পাখির ডাকে    
থেমে সুদিনের প্রত্যাশী পথপার্শ্বে
এসে নির্জনে নিশ্চল ভাবে বসে    
ভাবে,‘মানুষ প্রকৃতি হনন করে    
কাকে ডাকে অতিশয় সমাদরে’?  
পথে পাহাড়-বনানীর বুক চিড়ে
আগত চেল-কে দেখে অনতিদূরে
সেই অগভীর ‘চেল’ নদী-তীরে
গিয়ে দেখি সাদা-বক মাছ ধরে।  
দেখেছি পথে চেল যৌবন হারা,    
অনাবৃষ্টিতে জলের ক্ষীণ-ধারা।  
তার বিশ্বাস,‘বিশ্বে মনুষ্য দোষে  
বিপদ ঘটছে প্রকৃতির রোষে।
অচিরে আমিও হারাবো স্মৃতি,
তখন কী হবে অগতির গতি?’