আমার দিদি আমার বন্ধু সে তো আমার সহচর,
বয়স হিসেব করলে দিদি চার বছরের সিনিয়র।


বোন কেবলই বোন শুধু নয় আদতে সেও মা যে,
মার'চে দিদি কম ছিলনা আমার কোন ও কাজে।


মা'র চেয়ে বেশ ঢের চড়েছি বড় বোনের কোলে,
পায়ের ব্যাথার অযুহাত আর কতই মিথ্যে বলে।


বাজার থেকে ফিরলে বাবা সেই খরচের ব্যাগটা,
হাত ঢুকিয়ে আনত খুঁজে খাবার জিনিস একটা।


সেই খাবারের ভাগ দেবেনা ক্ষেপায় কিসব বলে,
আমি নাকি নইকো মোটে তার বাবা-মার ছেলে।


আমায় নাকি পাশের গাঁয়ে চাকচড়কের মেলায়,
দিদি সেবার কুড়িয়ে পেলো সেইযে ছোট্টবেলায়।


সেই মেলাতে পথ হারানোয় বাবলা গাছের তলে,
এক নাগাড়েই চলছি কেঁদেই মা মা মা গো বলে।


দিদির নাকি আমায় দেখে লাগলো দারুণ খাসা,
নিজের টাকায় কিনে দিলো একটাকার বাতাসা।


সেই বাতাসাই খেয়েদেয়েই থামিয়ে সকল কিছু,
তার লোভে ফের দিলেম হাঁটা দিদির পিছু পিছু।


সে যাই বলুক বেশ বুঝি তা আজগুবি নয় সত্য,
এবার আসি আগের কথায় বাবার আনা খাদ্য।


সেই খাবারের ভাগ না পেয়ে মাটির ওপর শুয়ে,
অশ্রু পাতের বান ভাসাতাম আমি যে একগুঁয়ে।


দিদিই তখন সেই খাবারের আধেকটা বেশ এনে,
বলতো এসে চাইনা আমি তোর ভাগ তুই নে নে!


পঁচা খাবার খাই না আমি তুই একা সব খা ধর,
কাঁদিস কেন বোঁকা ছেলে ভাইটি আমার বাঁদর।


হাই ইস্কুলের দিদির মোটা বইয়ের পাতার ফাঁকে,
লুকিয়ে রাখা বোনের যতো খুচরো পয়সা থাকে।


একলা আমি মেলার সময় টান মেরেছি কতোই,
খুব গোপনে সিন্দাবাদ আর শক্তিমানের মতোই।


যা আনে সেই ছোট্ট মামা থাকেন দেশের বাইরে,
একলা একা সাবড়ে দিয়ে বোনকে বলি নাই রে।


দিদি তখন মিছেমিছিই বলতো আমার ও আছে,
আমি ও যখন বসব খেতে ঘুরিস আমার পাছে !


এক দণ্ড কেলিয়ে নেবো কান দুটো তোর ছিঁড়ে,
তখন আমায় কানের ব্যথায় বলিস না দিদি রে।


আমার কানের অনেক ব্যাথা একটু মলম দে না,
মলম আমার আছে তা ঠিক ফার্মেসীতেই কেনা।


আমার বোনটি কাকের কণ্ঠী আমি বাধ্য শ্রোতা,
সেই কথাটা বলতে গেলে খেতাম যে তার জুতা।


বাধ্য হয়েই বলতে হত বাহ! কি মধুর আওয়াজ!
তবেই আমার সারাটাদিন চলত দারুণ তোয়াজ।


দিদির সইয়ের বাড়ি যেতাম আমরা দুজন মিলে,
পকেট ছেঁড়া ফতুয়া আমার সেলাই করার ছলে।


দিদির সখি সেলাই করে নামটি তাহার তার চারু,
আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে নারকেলের এক নাড়ু।


কিসের আমার ফতুয়া সেলাই দুই সখি এক হয়ে,
দুই জীবনের গল্প পড়তো দুই জোড়া ঠোঁট বেয়ে।


কায়কোবাদের 'সুখ' কবিতা দিদির যে খুব  প্রিয়,
ওই সব আমার হয় না পড়াই আজ অব্দি যদিও।


ছোটো বেলার ভাবনা যেদিনই বাবার মতোন হই,
বোনকে দেবো কায়কোবাদ এর সব ক'খানা বই।


মাঝে মাঝে বোনটি আমার মায়ের মতোন করে,
আমার পিঠের ছাল তুলে নেয় চুলের ঝুঁটি ধরে।


দিদি যে ভাই আমায় শুধুই শাসন করেই না রে,
মায়ার সাগর উপচানো তার রক্তে মাংসে হাড়ে।


পাশের বাড়ির শিবুর সাথে মোরগ লড়াই লড়ে,
ধোলাই খেয়ে উলটে ছিলাম মাটির ওপর পড়ে।


কার বা কাছে কি শুনে সে সেথায় এসেই হাঁ রে!
বারে বারেই করলে পরখ বুক পিঠে আর ঘাড়ে।


একটি পা আর যায় না ফেলা পাইনি গায়ের বল,
সেইদিন আমি ঢের দেখেছি দিদির চোখের জল।


আমার জন্য দেখেই সেদিন দিদির নীরব রোদন,
নয়ন জলে ভিজলে আমার বোধ হয়েছে শোধন।


বোনের চেয়ে নাই কোন ধন কোন ভা'য়ের আগে,
এমন বোনটি থাকলে ঘরেই  বন্ধু কি আর লাগে।


তারই মুখে শোনা কতো মামদো ভুতের কেচ্ছায়,
ভয়ে গলা কাঠ হত রোজ তাও শুনেছি স্বেচ্ছায়।


সে সব দিবস হারিয়ে গেছে কেচ্ছা শোনার রাত,
আমার কানে বোন যে এখন দেয় না মোটে হাত।


দিদি এখন পরের বাড়ি নিজের ঘরের বারান্দায়,
আমায় নিয়ে হয়তো ভাবে একটু যদি সময় পায়।


দিদির এখন খেলার সাথী পাকের ঘরের চুলোই,
স্বামীর সাথে ভাগ হয়েছে আমারই সময় গুলোই।


হে বিধাতা প্রাণ দিয়ে দাও সকল আশায় মনের,
আমার প্রিয় সোনার দিদি খেলার সাথী বোনের।


            ---------********------------
তারিখঃ ২৩/০৬/২০২১ ইং
সময়ঃ ২২:০০ ঘটিকা/মাওয়া