বড় বেশি অগোছালো ছিলে তুমি

শার্টের কলার উল্টো ভাঁজে পরা
বোতাম কখনো দু’একটা একেবারেই নেই,
যেগুলো আছে তাও ওপর নিচ করে লাগানো
সাতদিন ধরে একই জিন্স প্যান্ট,
আর অন্তরবাসের কথা নাইবা বললাম;

খাবারটাও গুছিয়ে খেতে পারতে না কোনদিন;
মাংসের হাড্ডি চিবিয়ে, বেড়ালের মত আওয়াজ করে ডালের পেয়ালায় চুমুক
খাবারের শেষ কণাটুকু বুভুক্ষের মত চেটেপুটে গোগ্রাসে।

আমাকেই কেটে দিতে হত বুড়ো খোকার হাত-পায়ের নখ
ব্যাক ব্রাশে যে তোমায় স্মার্ট লাগে বুঝতেই পারোনি কখনো
বখাটেদের মত লম্বা চুলের ছাটই ছিল তোমার অত্যন্ত প্রিয়;
হাজারো চোখের দৃষ্টি এড়িয়ে তোমার সেলুনের কোণে আমাকেই ঠায় বসে থাকতে হত
তোমার ঠিকঠাক দেখভাল করাই তো ছিল আমার রোজকার কাজ।

আড্ডায়, বিয়ে বাড়ি, জন্মদিনে, সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে, স্মরণ সভায় কিংবা মিলাদ-মাহফিলে
ঠিক কোন পোশাকে যেতে হয় সেসবও বাছাই করতে পারতে না কোনদিনই
বিছানাটা ছিল তোমার ওয়্যারড্রব;
একগাদা ময়লা কাপড় একপাশে ঠেলে তাতেই ঘুমিয়ে পড়তে,
ধোয়াটা ফেরত দিয়ে নতুন ময়লা কাপড়ের ব্যাগ ঘাড়ে ছোটাছুটি
সপ্তাহান্তে সেই তো ছিল আমার লণ্ড্রীম্যানের ডিউটি।

ঘরের মেঝেখানা ছিল ময়লার পাহাড়;
জুতোর তলার ধূলোকাদায়, পেঁয়াজ-রসুনের খোসার রাজত্ব যেন।
রান্নার অপচেষ্টা আর তার ধ্বংসযজ্ঞে সব লণ্ডভণ্ড।
বইয়ের পাতা লেখার খাতা সবই ছিন্ন ভিন্ন!
আর কী যে ছিল পড়ার টেবিলের হাল
সে কি জানা হত নির্ভরতার হাত না বাড়ালে?
পাক্কাপোক্ত বোহেমিয়ান হওয়াই ছিল যেন জীবনের একমাত্র লক্ষ্য তোমার!

তোমাকে নিয়ে সে কী বিশাল কর্মযজ্ঞ আমার!
অবুঝ শিশুর এক পা দু’পা হাঁটা, আধো আধো বোল শেখার মত বিশেষ আয়োজনে
প্রেমিকার চেয়ে তখন একজন তরুণী অভিভাবকই ছিল বড় প্রয়োজন তোমার;
সুযোগ পেলেই যার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে সব
হৃদয় নিংড়ে নিংড়ে নিতে ভালোবাসার নির্যাস!

বড় ভালোবেসে তুমি হতে যার ইচ্ছের পুতুল
রাগে-অভিমানে ক্ষোভে-দুঃখে যার কাছেই করতে সব উসুল!
সেই অসাংস্কৃতিক তোমায় আজও খুঁজি আমি।

কোথায় হারালে তুমি এই সভ্য সংস্কৃতির ভীড়ে?