এখন
আপনি বৃদ্ধ হয়েছেন; বার্ধক্যে নুয়ে পড়েছে আপনার মন,
জন্ম-মৃত্যুর মাঝে ছেলেখেলা করা ছিলো আপনার ধরণ।
আজ আপনি কাটাচ্ছেন ভীষণ নির্ঝঞ্ঝাট জীবন; শান্ত-ঘরোয়া,
জেনারেল পিপলের প্রতি ছিলোনা আপনার কোনো পরোয়া।
অগণিত ভক্ত ছিলো আপনার আর তাদের নিবেদিত প্রাণ,
তারা ছড়াতো পারফিউম; আপনার নাকে যেতোনা দগ্ধের ঘ্রাণ।
তবুও উপসনালয়ে আসতো পোড়া হৃদয়'এর ক'জন,
হৃদয়ের উষ্ণতা যোগাবেন আপনিই, তাদের প্রিয় স্বজন।
বোকার হদ্দগুলো আপনাকে সব দেবে বলে ধরতো বায়না,
কেউ কেউ হুট করেই বানিয়ে ফেলতো সাত ফুটের আয়না।
সে আয়নাতে আপনি আপনার প্রতিবিম্ব দেখে হবেন ধন্য,
তবে মহামান্য, ধৈর্য ধরবেন এক বিষণ্ণ সন্ধ্যার জন্য।


তারপর
এক বিষণ্ণ সন্ধ্যায় আয়নাটিতে নিজেকে দেখছিলেন যতো,
আলো ছাঁয়ার মত্ত খেলায় পাল্টে গেছেন দাবার ঘুটির মতো।
আপনার সামনে এক শান্ত, নির্ভীক, প্রণয়ী অবয়ব দাঁড়িয়ে,
প্রিয় সত্তা সে আপনার, ডাকছিলো আপনাকে দু'হাত বাড়িয়ে।
আপনার ভাষার রুক্ষতা, মনের কালো, সব যেন ধুয়ে গেছে-
এক নিমিশে; বিদ্বেষ ধুতে জানে এমন ধোপার চালের প্যাঁচে।
আপনার ত্বকের একশ লোম পরিণত হয়েছে নবীন গাছে,
সজীব সে গাছের ছোঁয়া পেলে যেন হাজারটা জীবন বাঁচে।
আপনার আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরছিলো প্রচুর চঞ্চল অক্ষর,
প্রেমের কবিতা হয়ে নোট খাতায় তারা সাজতে বড় দক্ষ।
এ যেন এক মায়াজাল, আপনি আটকে গেছেন শক্ত এক ভ্রমে,
বেরিয়ে আসা দুষ্কর; যত চেষ্টা চালান হাজারো শ্রমে।


এরপর
আয়নায় কালো দাগের এলোমেলো কিছু লেখা ভেসে ওঠে,
'রুদ্ধ কণ্ঠ মুক্ত করো' ভাসতেই ঘোর কেটে আলো ফোটে।
কিন্তু গলায় যে র‍্যাডিক্যাল কর্তৃবাদের একটা মাংসের হাড়,
একটু একটু করে হয়েছে সে ফোলা-ফাঁপা, ঢোল চেহারার।
সাধের এ হাড় শখে বিধেছেন গলাতে, সে যে সরবেনা আর,
আপনার অহংকার এসে রুখে দেবে, এমন সাধ্য আছে কার?
তবে দেখুন উচ্চ শিরে এক প্রাণ, আপনাকে পেতে হবে ভয়,
বিপথে যায়নি সে, দেখুন চোখ তুলে তার মেধা কেমন অক্ষয়।
এ এক নিশ্চুপ প্রতিবাদ যা আপনাকে কাঠগোড়ায় দাঁড় করালো,
আপনার পাগলামি সে অবিশ্বাসীর চোখে আনন্দ ভরালো।
আলগোছে আপনার মাথায় ভাঙা হলো আস্ত এক অশ্বডিম্ব,
আপনার সব মিথ্যে দম্ভ নস্যাৎ করতে জানে সেই প্রতিবিম্ব।