প্রিয়তমা,আজও আবার করবো স্মৃতিচারণা।  
তুমি জানো,আগের কর্মস্থলে আমাকে প্রতিদিন
দক্ষ-অদক্ষ কর্মীদের করতে হতো পরিচালনা।
বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতা ছিল কিনা জানি না,তবে
এটুকু বলতে পারি ঘোলাপাঁকে থাকলেও পাঁক
লাগেনি গায়ে।সুদীর্ঘ কাল সে কাজটি করেছি
নির্ভয়ে।
এখন বিশ্বজুড়েই খুব অস্থির অবস্থা।সাধারণ
মানুষেরা রয়েছেন দুঃসহ যন্ত্রণায়।ব্যক্তিস্বার্থ
এতোটাই প্রকট মাছেরা যেন বড়শি ও ছিপ
নিয়ে পালায়।প্রায়শ ধর্মঘট এবং লক আউট
হয় কল-কারখানায়।
দেশ গড়া নিয়ে এখন মানুষের ভাবনা খুবই
বদলে গেছে।ভাবি, দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে
বীর শহীদের ভাবনাগুলো কি ছিল মিছে!
দূরবীনে চেয়ে দেখো এখন চামচিকা ও একটু
সুযোগ পেলে বীরপুরুষ সেজে গুণীজনদের
শাসাতে আসে।
কল-কারখানা গুলিও বন্ধ হচ্ছে একে একে।
বাঁচার তাগিদে অসহায় মানুষেরা পরিযায়ী
শ্রমিক হয়ে চলে যাচ্ছে দেশ-বিদেশে।
প্রিয়তমা,ভাবো আমার আগের কর্মস্থলে যদি
লক-আউট ঘোষণা না-হতো তবে আমাকে
কি এখানে এখন পরিযায়ী শ্রমিকদের মতো
কাজ জোটাতে আসতে হতো?নিষ্ঠুর নিয়তি,
ভাগ্যদেবতা সংসার টার কথা ভাবলেন না
এক-রতি।
তোমাকে সেদিন বলেছি ভাগ্যের বিড়ম্বনায়
এই বিভূঁই-এ এসে আমি প্রথমে খুব বিপদে
পড়েছিলাম।অবশেষে সেই দুর্যোগ কেটেছে।
কাজ শুরু করতে হলো অদক্ষ দিন-মজুর
হিসাবে।খুব খাটতে হচ্ছে বটে,তবুও এখন  
বেকারত্বের অভিশাপ ঘুচেছে।
প্রিয়তমা!এ জীবনে আসবেই জোয়ার-ভাটা।
বৈচিত্রহীন জীবন একঘেয়ে,আনন্দ কোথায়?
হাসিমুখে উপভোগ করো সুখ-দুঃখ সবটাই।
জীবনটাকে প্রাণবন্ত নদীর মতো দেখো।
হ্যাঁ,বলছি মায়ের কথা।গরীব ঘরে সংসার
পেতে সারাজীবন তাঁর দুঃখ-কষ্টগুলোকে
ছেঁড়া-শাড়ি রিফু করার মতো করে মুখে হাসি
নিয়ে দিন কাটাতে দেখেছি তাঁকে।দেখেছি
শৈশব থেকেই,মা তার আরাধ্য দেবতার
উপাসনা করে দিন কাটাতে ভালোবাসে।
তাকে ভালোবাসার জগৎ নিয়েই থাকতে
দিয়ো বৃদ্ধ বয়সে।
রাত গভীর হলো।ক্লান্তিতে হয়েছি ধরাশায়ী।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই কাজে যেতে হবে
তাড়াতাড়ি।আজ এটুকুই থাক।ঘুমিয়ে পড়ো।