এখন কালবৈশেখী, লণ্ডভণ্ড জীবন
একবার শুধু একবার নিয়ে যাও
ফাগুনের প্রান্তিক বিকালের কাছে,
বসন্তের উদাসীন কোকিলের মতো
কুহুতানে ছুঁয়ে দিবো তোমার তনুমন।
পাখিদের কলতান আর ফুল শতদল হয়ে
বৈরী বাতাসের আঙুলে
বিলি কেটে দিবো কাজল রেশমি চুলে।
            হলপ করে বলতে পারি
অনাবিল সুখের নিবিড় স্পর্শে উন্মাতাল হবে।

যে সাগর সৈকতে বিছিয়েছে ছায়ানীড় আঁচল
সেই বলতে পারে হাওয়ার ব্যাকুলতা কাকে বলে,
কেমন করে ওঠে ঝড় তাণ্ডব,নামে আষাঢ় ঢল।
              একবার, শুধু একবার ছুঁতে দাও
শ্রাবণের ভেজা মেঘ রিমঝিম বৃষ্টি
সবুজে সবুজময় করে দেব অনাবাদী জমিন,
বুকের চরাচরে কেন এতো শুনশান নীরবতা?
স্যাঁতসেতে পাপ, ধোঁয়াশা সকাল থাকবে না
রংধনুর সাত রঙে রাঙিয়ে দেবো চরাচর।

একটা শুধু একটা শরৎ আমাকে দাও
রাতের মাধবী শিউলি বেলী হয়ে উঠবো ফুটে
সুখময়  সুবাস ঢেলে দিবো তোমার আঙিনায়।
নীলাকাশে ভাসাবো ধবল মেঘের ভেলা
হেসে উঠবো দুধ সাদা কাশফুলে।
রঙের মাধুরীতে মনের ক্যানভাসে করবো বন্দী
দূর্বার বুকে বিন্দুবিন্দু শিশির হবো
ছুঁয়ে দেবো তোমায়, ধুয়ে দেবো চরণদয়।

পাহাড় চূড়ায় বসত করা হীম বুড়ির বাড়ি থেকে
একটা শুধু একটা হেমন্ত আমাকে এনে দাও
কোনো ভীরুতা নয়, নয় কোনো আর্তনাদ
বৈকল্য সময়ের ফিকে রোদ ডিঙিয়ে
গল্পের আসর জমাবো ময়নামতির মাঠে।
কথা দিচ্ছি ভালবাসতে বাসতে
সোনালী ফসল সম্ভারে ভরে দেবো গৃহকোণ।

নিশ্বাসে মিশিয়ে নিশ্বাস মুক্ত হবে সকল অসুখ
মন্দাক্রান্তা হিল্লোলে ধুয়ে দেবো বিপণ্ণ বিকেল।
একটা শুধু একটা শীতের আবেশ আমাকে দাও
উষ্ণতা-উষ্ণতায় ভরে দেবো
ঝরা পাতার মর্মর গানে গহন রাত্রি হবে পার।
জীবন থেকে জীবন হারিয়ে যাবার আগে
একবার শুধু একবার টেনে তোলো,
অনিকেত এ আমাকে সাজাতে দাও গৃহবাটিকা।

৮/৪/২১