প্রিয়তমা,
তোমাকে খবরটা দিচ্ছি এক বিশাল গাছের
নীচে বসে।কাল তোমাকে ম্যাসেজের পরে,
ব্যাগে মজুত খাবার ও কিছু জল নিয়ে তখনি
পুলিশের ভয়ে গর্তের ইঁদুরের মতো এদিক
সেদিক দেখে শেষে নেমেছি সড়কে।
টহলদারি পুলিশের ভয়ে সড়ক পথ নিরাপদ
নয় ভেবে সেই পথ থেকে সরে একেবারে
পথের পাঁচালি র অপু-দুর্গার মতো মাঠঘাট
দিয়ে হেঁটেছি একটি অজানা অচেনা পথে।
আবার কখনো ছুটেছি ঠিক হরিণের মতো
দুর্বার গতিতে।এই স্বল্প সময়ে বত্রিশ কি মি
পথ হেঁটে যাওয়া সম্ভব নয়,শিখেছি ব্যর্থতা
থেকে।
প্রিয়তমা,এ’জীবন চলে বন্ধুর পথে।ব্যর্থতা
কখনও কখনও শিক্ষক হতে পারে।অর্জিত
অভিজ্ঞতা অদূর ভবিষ্যতে আলোর পথের
দিশারি হতে পারে।
সে সময় আমি যেন চলছি অহর্নিশ,তবুও
পথের শেষ টা কোথায়,তার পাইনি হদিস।
প্রাণপণে জোরে হেঁটেছি,কখনো বা দৌড়ে
দূরত্ব কমাতে চেয়েছি।
জানো,বারবার মনে হলো স্টেশন টা যেন
যাচ্ছে সরে।ব্যবধান ও সেই একই থাকছে।
সীতার বস্ত্র-হরণের মতো অবস্থা।সে সময়
ভেবেছি,সময়টা কি আমার সঙ্গেও করছে
তামাশা।
সন্ধ্যা হলো।তবুও চলেছি আলো-আঁধারে।
স্টেশন তখনও বহু দূরে।দেখেছি আকাশে
একে একে জেগে উঠলো রাতের প্রহরীরা।
জ্বললো তারা রা।সেই নির্জন প্রদেশে তখন
আমি একা,ভারী নিঃসঙ্গ।ধারে কাছে পাইনি
পথের আলোর দেখা।
প্রিয়তমা,বলছি তোমায় রাত্রিবাস করেছি
ধূলি ধূসরিত ঝরাপত্রের মতো লোকালয়
থেকে বহুদূরে এক জনহীন প্রান্তরে।এখন
এটুকু ই থাকুক,আবার কথা হবে  পরে।