প্রিয়তমা,তোমাকে আগে জানিয়েছি গত
রাতে ঘুমিয়েছি এক বৃক্ষের পাদ দেশে।
রাতে সেখানে পৌঁছে দেখেছি চারিদিক
অন্ধকার,এগোনোর ছিল না উপায়।জানি,
বৃক্ষের নিচে রাত্রিবাস করা উচিত নয়
তবুও সে সময় আমি নিরুপায়।নিয়তির
কারাগারে বসা অবস্থা থেকে কখন যে
শুয়েছি ও ঘুমিয়ে পড়েছি,ভেবে বলতে  
এখন লাগবে সময়।
পরিশ্রান্ত ছিলাম।নিদ্রা-দেবী নিজ হস্তে
করে দিলেন ঘুমানোর সমস্ত আয়োজন।
রাতে অঘোরে ঘুমিয়েছি।ধ্রুবতারা সাক্ষী,
দিয়েছে প্রহরা।
প্রিয়তমা,ভোর হওয়ার সাথে সাথে শত
শত পাখির কলকাকলির কোমল পরশে
আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে লাগলো সুড়সুড়ি।
আমি ওদের সুমধুর গানে বিভোর হয়ে
সেই সুমধুর ধ্বনি হৃদপদ্মে ধরে রেখেছি
তড়িঘড়ি।
প্রিয়তমা,সেই সুরে বিমোহিত হয়ে এখন
বসে আছি বৃক্ষ মূলে।তোমাকে বলবো কী,  
বিস্ময়ে হতবাক হয়ে অপলক চেয়ে দেখি,
দূরে শত সহস্র ময়ূর-ময়ূরী,হরিণ-হরিণী
সহ বহু পশুপাখি অবাধে করছে বিচরণ,
করোনার ভয়ে মানুষ গৃহ বন্দী হওয়ায়
ঘুচেছে পশু-শিকারি দের নির্যাতন।
প্রিয়তমা,বলি ভোর হতে শুনছি পাখিদের
কলকাকলি।মনে হয় এখন বেড়েছে ওদের
কণ্ঠস্বর।দীর্ঘকাল পরে পশুপাখিরা মুক্তির
স্বাদ পেয়ে সকাল থেকেই অবাধে বিচরণ
করে এখন পাত পেতে খাচ্ছে চেটেপুটে।
ওরা হয়তো এখন অন্তর থেকে মানুষদের
দিচ্ছে ধিক্কার।আবার ফিরে পেতে চাইছে
অরণ্যের অধিকার।
প্রিয়তমা,জেনে রাখো বন্দি দশায় পেলে
চামচিকাও হাতিদের সামনে এসে শাসন
করার স্পর্ধা দেখায়।ডানা ঝাপটে চাটিও
মারে।হয়তো করোনার ব্যাপক সংক্রমণ
কালে পশু-শিকারি দের উপর সেই দশা
আসছে ফিরে।ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার নিয়ম
কি ব্যর্থ হয়েছে কোন কালে?
পশুদের অবাধ বিচরণ শিকারি রা যদি
দেখে এখন শূলের মতো বিঁধবে তাদের
শরীরে,তবুও প্রকৃতি নিধনের কর্মযজ্ঞে
মাতোয়ারা মানুষেরা মুখ বুজে সহ্য করা
ছাড়া কী করবে এখন?
মানুষকে এবার বুঝতে হবে এই পৃথিবী
তাদের একার নয়,এখানে পশুপাখিদেরও
বাঁচার সমান অধিকার।এই সত্য তাদের
করতেই হবে স্বীকার।
প্রিয়তমা,এই জন-মানব হীন প্রদেশে কী
করা উচিত তাই বসে ভেবেছি।বলে রাখি,
এখানে পুলিশের নেই কোন তল্লাশি।হিংস্র
পশুদের দৌরাত্ম্যও নেই।
গত দিনের শারীরিক ধকল টা এখনও
রয়েছে শরীরে।আজও এখানে থাকবো
স্থির করেছি।
প্রিয়তমা,আবারও একটু ঘুমোতে ইচ্ছা
হচ্ছে।বিরতি নিচ্ছি কথা হবে পরে।