প্রিয় কবি-বন্ধুরা, কবিতা নিয়ে নিজের কিছু অপরিনত ভাবনার কথা বলার আগে কবিতাকে বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যাক্তির চোখ দিয়ে দেখে নেয়া যাক-


এরিস্টটলঃ
‘ কবিতা দর্শনের চেয়ে বেশি, ইতিহাসের চেয়ে বড়ো।‘


সেন্ট অগাস্টিনঃ
‘ যদি জিজ্ঞাসা করা না হয়, আমি জানি। যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, আমি জানি না।‘


বোদলেয়ারঃ
‘ প্রত্যেক কবি অনিবার্যভাবেই সমালোচক। একজন সমালোচক কবি হয়ে উঠলে আশ্চর্য হওয়া যতটা স্বাভাবিক তার চেয়ে
বেশি আশ্চর্য হতে হবে যদি একজন কবির মধ্যে সমালোচক জেগে না থাকে।‘


জনসনঃ  
‘ কবিতা হোল মেট্রিক্যাল কম্পোজিশন। আনন্দ এবং সত্যকে মেলাবার শিল্প যেখানে reason কে সাহায্য করার জন্যে ডাক পড়ে imagination এর।‘


মিলঃ  
‘ চিন্তা এবং বাক্য, যার মধ্যে আবেগ পেয়ে যায় নিজের শরীর।‘


মেকলঃ  
‘ কবিতা বললে আমরা বুঝি সেই শিল্প যা শব্দকে ব্যবহার করে এমন ভাবে যা কল্পনার রাজ্যে জাগিয়ে দেয় এক স্বপ্ন।‘


ওয়ার্ডসওয়ার্থঃ  
‘ কবিতা সমস্ত জ্ঞানের শ্বাস-প্রশ্বাস আর সুক্ষ আত্না।‘


রবার্ট ফ্রস্টঃ
‘ কবিতা হোল পারফরমেনস ইন ওয়ার্ডস।‘


কোলরিজঃ
‘ গদ্য মানে শব্দ সর্বোৎকৃষ্টভাবে সাজানো। আর পদ্য মানে সর্বোৎকৃষ্ট শব্দ সর্বোৎকৃষ্টভাবে সাজানো। ‘



এডগার এলান পোঃ  
‘ সৌন্দর্যের ছন্দোময় সৃষ্টি।‘


শেলিঃ
‘ কবিতা হলো পরিতৃপ্ত এবং শ্রেষ্ঠ মনের পরিতৃপ্তি এবং শ্রেষ্ঠ মুহুর্তের বিবরণ।‘


কীটসঃ
‘ কবিতা মুগ্ধ করবে তার সুক্ষ্ম অপরিমেয়তায়, একটি মাত্র ঝংকারে নয়। পাঠকের মনে হবে এ যেন তারই সর্বোত্তম চিন্তা যা ক্রমশ ভেসে উঠছে তার স্মৃতিতে।‘


এলিয়টঃ
‘ কবিতা রচনা হলো রক্তকে কালিতে রূপান্তর করার যন্ত্রনা ‘


কার্লাইলঃ
‘ কবিতা হলো মিউজিক্যাল থট ‘


বড় বড় মানুষদের কথা জানা গেলো। এবার কবিতা নিয়ে আমার কিছু অপরিনত ভাবনার কথা বলি।


একটা নদীর কথা ধরা যাক। জলে ভরা নদী তার প্রাগৈতিহাসিক স্রোত বুকে নিয়ে দু’কুল ছাপিয়ে দিয়ে বয়ে চলছে সমুদের দিকে। আমার কাছে কবিতা যেন এই বয়ে চলা নদীটির মতই। সব কবিতার মধ্যেই এক অন্তঃশীল ছন্দের বা সুরের স্রোত বহমান যা সে আবহমান সংস্কৃতি থেকে প্রাপ্ত হয়। জানালোক থেকে অজানালোকে, দেখা না দেখার মাঝামাঝি, বুঝা না বুঝার মাঝামাঝি কোন নিবিড় অনুভুতির স্রোত একটা আরো কোন বৃহৎ মহৎ উপলব্দির দিকে এগিয়ে যেতে চায়। এই স্রোতটুকুকে থামিয়ে দিলে যেমন নদীর মৃত্যু অনিবার্য, তেমনি কবিতার অন্তঃশীল সুরটুকুই তার প্রাণ। আবার জল সেঁচে যদি কেউ নদীর রূপ উৎঘাটন করতে চায়, তার ভিতরের উদ্দেশ্যকে বুঝতে চায় তাতে কাঁদা-জল অনেক মিললেও নদীর স্বাভাবিক নান্দনিকতা হারিয়ে যাবে সেভাবেই কবিতাকে বুঝতে হবে তার  স্বাভাবিক গতি, শব্দের গভীরতা ও ভাষার প্রবাহকে অক্ষুণ্ণ রেখেই।


কবি যখন তার নিজের তৈরী সচেতন ভাষায় কোন রোমাঞ্চকর জগৎ তৈরী করতে পারবে যেখানে প্রবেশ করলে পাঠক নিজেকে হারিয়ে ফেলবে অনুভুতির ভিন্ন কোন মাত্রায়, তবেই হয়ত তার কবিতা জায়গা করে নেবে সাহিত্যের মুল ধারায়।


আমার এই কবিতা নিয়ে সামান্য ভাবনা তুলে ধরার কারন হচ্ছে, যাতে করে এই লেখার সূত্র ধরে আসরের কবিরা যেন নিজ নিজ কাব্যভাবনা তুলে ধরেন অনেক বেশি গভীর এবং সচেতন উপলব্দির দৃষ্টিকোন থেকে। এতে করে হয়ত সমগ্র পাঠক সমাজ কবিতাকে আরো বেশি হৃদয়ঙ্গম করতে সমর্থ হবে।