===========================================


একজন কবি,
কিছুতেই কবিতা লিখতে পারছে না।
কবিতা লিখতে না পারার অসহ্য যন্ত্রনা ,
তাকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে রক্তাক্ত করছে প্রতি মুহূর্ত।`
তবু ও
সাদা কাগজের উপর কলম ঠুকে,
কবির,
রাত কাটছে, দিন কাটছে,
কিন্তু কিছুতেই কবিতা লিখা হচ্ছে না।
কবিতার ছন্দ, কবিতার ভাবনা, কবিতার কথাগুলো ,
কেমন তুলোর মতো মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে,
কিছুতেই ধরা দিচ্ছে না।
কবির ঘুমহীন  রক্তলাল  বিস্ফারিত চোখ,
যেন ভিসুভিয়াসের আরেকবার অগ্নুৎপাতের অপেক্ষায়,
তবুও কবিতা লিখা হচ্ছে না।


অথচ,


একজন চাষী মনের আনন্দে চাষ করছে ,
ধান বুনছে, ফসল ফলাচ্ছে, মই দিচ্ছে,
আবার গুনগুন করে গান ও গাইতে পারছে।
একজন রিকশাওয়ালা ,
মধ্য  দুপুরে স্বঘোষিত অবসরে,
মনের আনন্দে সিটের  উপর দু পা তুলে দিয়ে ,
বিড়ি ফুঁকতে পারছে।
একজন পাখিওয়ালা,
বদ্ধ খাঁচার আবদ্ধ পাখি গুলো,
মুক্ত আকাশে উড়তে দিতে পারার আনন্দে ভাসতে পারছে।
একজন রাজনীতিবিদ,
অনর্গল মিথ্যে কথার  ঢালি সাজিয়ে,
ভোট চাইতে পারছে।
আবার ভোট পেয়ে সিংহাসনে বসে ,
যা ইচ্ছে তাই করতে পারছে।
একজন সেনানায়ক অবলীলায় গনতন্তের টুটি চেপে ধরতে পারছে।
আবার পার  পেয়ে ও যাচ্ছে।
একজন পুলিশ কি সাবলীল ভাবেই না
উপরি কামাই পকেটে পুরতে পারছে।
একজন তরুণ,
যার মেধার স্ফুরণে আলোকিত হওয়ার কথা ছিল পৃথিবী,
নেশার নীল ধোঁয়ার অন্ধকারে আচ্ছন্ন থেকে ভাবছে ,
কি লাভ এই নষ্ট পৃথিবীর কষ্ট  হয়ে বেঁচে থাকার।
একজন পথবধু,
লাল গোলাপ খোঁপায় গুঁজে
খদ্দেরের অপেক্ষা করতে পারছে।
একজন আমলা,
কত সহজেই না দেশ কে বেঁচে দিতে পারছে।
একজন বিচারক,
বিধাতা প্রদত্ত ক্ষমতা অগ্রাহ্য করে,
একজন নিরপরাধকে ফাঁসি দিতে পারছে।


শুধু কবি।
শুধু একজন কবি,
কিছুতেই কবিতা লিখতে পারছে না।


সমাজতন্ত্রের অলীক তত্ত্ব এখন দিবা লোকের মতো উন্মুক্ত।
লেনিন স্কয়ারে  লেনিনের মরদেহ এখন আর পূজনীয় নয়।
কার্ল মার্ক্স্ আর গোর্কি এখন আবর্জনার স্তূপে।
চে গুয়েভারার মতো বীরের মৃত্যুর চেয়ে,
এখন শত বৎসর বেঁচে থাকাই শ্রেয়।
প্রবল প্রতাপ সাম্রাজ্যবাদ এখন ,
মৌলবাদের নৃশংসতার কাছে  নতজানু।
একজন মুক্তি কামী গণতন্ত্র বাদী যুবকের মৃত্যুতে,
এখন আর রাজপথে ঢল নামে না।
ধর্ষণের ঘটনায় এখন আর গণ রোষ তৈরি হয় না।
একজন অমিত সাহসী যুবক,
এখন আর ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে,
মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন বোধ করে না।


কিন্তু একজন কবি ,
কিছুতেই কবিতা লিখতে পারছে না।
কারণ ,
কবির হাত শিকলে বাঁধা।
সেই শিকলের প্রতিটি গ্রন্থি কবির নিজের তৈরি করা।
কবি বন্দি তার নিজের কারাগারে।
কবি নিজেই, নিজের কারাগারের সশস্ত্র প্রহরী।
কিছুতেই কবিতা লিখতে দেয়া যাবে না।
কারণ ,
কবিতা মুক্ত।
কবিতা স্বাধীন।
কবিতা কোনো রক্ত চুক্ষুকে ভয় পায় না।
এই জন্যই কবিতা লিখা হয় না।
এই জন্যই,  
কবি,
কবিতা লিখতে পারছে না।



==============================================