ব্যস্ততা চারিদিকে, এই আগুন দুপুরেও
পিচগলা রাস্তায়, অফিসের জানালায়
কুকুরের গায়ে
ফুটপাতে খাবারের দোকানের ধোঁয়ায় যেন
অন্ধ করে দেয়


ব্যস্ততা, শুধু ব্যস্ততা
অলি-গলিতেও বয়ে যায়
লোকটা এক পাড়ে সরে দাঁড়ায়
রোজই দাঁড়ায়, এই ভেবে
যদি তারও গায়ে ছিটে লেগে যায় !


দাঁড়িয়েই ছিল, দাঁড়িয়েই থাকতো
যদি না বাচ্চা মেয়েটাকে দেখতে পেতো
প্রাণহীন রুক্ষ বাদামী চুল,
ময়লা তেল চিটচিটে জামায়
পুরনো, বহু পুরনো অফিস বাড়িটার বারান্দায়
একাকী
নেই তো কেউ ওর আশেপাশে !

হাত বাড়িয়ে শুকনো হাসে
' একটু কিছু খেতে দিবি ?' বড্ড খিদে পেয়েছে।
এরা কেউ দেয় না।
মুখ ঘুরিয়ে নেয়
তুই দেনা ।'


লোকটা মাথা চুলকায়, গুটি গুটি পায়ে সরে যায়
তারপর জোরে পা চালায়।
ব্যস্ততা ও কেও ছাড়ে না, গিলে খায়


কিন্তু কোথায় পায়, কিভাবে পায় !
এখুনি কিছু একটা না করলেই নয়
হাত পেতে চলে দোকানে দোকানে
যেখানে যাকে পায়
' বাবু একটু কিছু খেতে দেবেন ?' বড্ড খিদে পেয়েছে। '
কেউ দেখে না, শোনে না, মুখ ঘুরিয়ে নেয়


লোকটা নাছোড়বান্দা
এবার পাতা হাত, উল্টে দেয়
যে কাজ সে কোনদিন করে নি, তাই করে
হ্যাঁ, ছিনিয়ে নেয় !
ছিনিয়ে নেয়, হাতে যা ওঠে দোকানীর
টক ঝাল মিষ্টি
কে জানে, কি পরেছে এই জালে ?
যা থাকে মেয়েটার কপালে


লোকটা ছুটতে থাকে
শক্ত মুঠোয় খাবার
এ গলি সে গলি দিয়ে সে পালায়
মানুষ ওকে ঠ্যালে, ও মানুষকে ঠেলে
ঠ্যালা, ভ্যান রিকশা, বড় গাড়ি
পাশ কাটিয়ে ছুটতে থাকে
তাকে পায় কে ! কে ধরবে তাকে !
হাতের তালুর মত চেনা এই অফিস পাড়া
দীর্ঘ দিনের অলস হাঁটা-চলা, ওঠা-বসা
চেনা সব তার
কাজ তো নেই কোনো, করেনি কোনদিনও
কাজ দিলেও বলে, 'চাই না হতে দাসত্বের শিকার'
সাধে কি ওকে লোকে বলে
অর্কমন্য কোথাকার.. ।