এক।


দেয়াল তুললেই ঘর
ভেঙ্গে ফেললেই পৃথিবী।


দুই।
প্রজাপতি ট্রেনের ভেতর---
ট্রেন ছুটছে,
প্রজাপতি উড়ছে,
স্টেশন পেরিয়ে যাচ্ছে
একটার পর একটা
প্রজাপতি জানতেও নি
সে কোথায় আছে
ট্রেনের ভেতরে না কি ট্রেনের বাইরে।


তিন।
সামনে কুয়াশা
পেছনে কুয়াশা
মাঝখানে স্পষ্ট এই আমি।
তবু
সামনে যে আছে
--- তার কাছে
পেছনে যে আছে
--- আমিও কুয়াশা।


আমার মতো আপনারও যদি কবিতাগুলি ভাল লাগে, তবে জানুন প্রিয় কবির নাম,সুজিত সরকার।


আমরা যারা সাধারণ গতানুগতিক জীবনে অভ্যস্ত আসল জীবনের মানে আমরা বুঝিনা।জীবনের মূল্য অনুভব করিনা।
কবি বলছেন,


মৃত্যুকে পরাস্ত করে
প্রতি মুহূর্তের তীব্র বেঁচে থাকা
আমরা তেমনভাবে কখনো জানিনা


সার্কাসের মেয়ে জানে।


আমরা অফিসে যাই,
আবার অফিস থেকে বাড়ি ফিরে আসি।
আমরা ঘুমোয়,জাগা
তারপর আড্ডা দিয়ে,হইচই করে,টিভি সিরিয়াল দেখে
আবার ঘুমোতে চলে যাই।


মৃত্যুকে পরাস্ত করে
প্রতি মুহুর্তের তীব্র বেঁচে থাকা
আমরা তেমনভাবে কখনো জানিনা।
                                   ( সার্কাসের মেয়ে)


পরক্ষণেই  যাচ্ছি 'সময়' কবিতাটিতে।যেখানে কবি চূড়ান্ত দার্শনিক।


এখন অনেক রাত।
ছাদে শুয়ে আছি।


কটা বাজে সঠিক জানি না।


১-১০ হতে পারে।
২-২০ ও হতে পারে।


শরীর শীতল হলে
মাদুর গুটিয়ে নেমে আসি।


বিছানায় এসে শুই।
ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি
২-২০।


বুঝতে পারি,
ছাদে কোন ১-১০,২-১০ নেই
২-২০ নেই,


ঘরে আছে।


সবশেষে ' ভাড়' কবিতাটি।মাটির ভাঁড়, মানুষের পিপাসা মিটিয়ে যেমন তার জীবনের সার্থকতা,কবিজন্মও  যেন তাই।


মাটি থেকে উঠে এলে
ভাঁড়
ফের মাটিতেই মিশে যায় ---


ফের উঠে আসে,
ফিরে যায় ফের।


পিপাসা অনন্ত হায়,
তবু সাময়িক নিবারিত হয়,
পথিকের।


আমিও ভাঁড়ের মতো---
দিনে দিনে
অমৃতের যে সঞ্চয়
বেড়ে ওঠে আমার ভিতরে,
পৃথিবী তা পান করে।


জন্ম নিয়ে
জন্ম দিয়ে যাই
জন্ম দিয়ে যাই


দেহ থেকে দেহ
দেহ থেকে দেহ


আরো কতো ভাঁড় তৈরী হয়


পৃথিবীর পিপাসা মেটাই।


কত সহজ,সাধারণ শব্দগুচ্ছ! অল্প কথা,অথচ কত অর্থবহ। এগুলিই তো আনন্দ দেয় আমাদের।
আমরা যারা ছোট কবিতা লিখি,ভাবের এই
গভীরতার দিকটা নিশ্চয়ই তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ
করবে। সহজিয়া আসলে এক সাধনা।সহজ কথা সহজ ভাবে পেশ করা এক মুন্সিয়ানা।সে বিচারে সুজিত সরকার নিঃসন্দেহে সার্থক কবি।


হাওড়া কদমতলা নিবাসী কবির জন্ম ২০শে সেপ্টেম্বর,১৯৫৫.পেশায় অধ্যাপক।


কবির কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ: ধরে রাখতে চাই,বড় আকাশের নীচে,আমি মাটি আমি আকাশ,কেন এই জন্ম,হয়তো আছি হয়তো নেই,আমার অল্পই কথা।


শব্দের নিজস্ব আলো,কবিতা কেন কবিতা ইত্যাদি গ্রন্থে রয়েছে কবিতা সম্পর্কে তার ভাবনার কথা।


বিভিন্ন সময়ে তিনি বিষ্ণু দে পুরস্কার,মঞ্জুষ দাশগুপ্ত পুরস্কার,জিরাফ পত্রিকা পুরস্কার,ইত্যাদি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।


আশা করব, তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে আরো বেশি করে পঠিত হবেন এবং যথোচিত প্রচারে আলোকিত হবেন।